Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

অবিশ্বাস্য ধসে সিরিজ হারলো ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক: ব্যাটিং অর্ডারে ধস। এই লাইনটির সঙ্গে ক্রিকেট বিশ্বের ছোট-বড় অধিকাংশ দলই পরিচিত। ব্যাটিং অর্ডারে ধসের কথা শুনলে সবার আগে মনে পড়ে পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশের নাম। কিন্তু ইংল্যান্ডও এমনভাবে ধসে পড়ে কল্পনাও করতে পারেনি কেউ।

গতরাতে ভারত-ইংল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি এমনই এক ব্যাটিং ধসের উপাখ্যান রচনা করলো ইংল্যান্ড। ১৩.২ ওভারে ১১৯ রানে ২ উইকেট। এ পর্যন্ত ট্রাকেই ছিল সফরকারীরা। কিন্তু এরপর শুরু হয় ব্যাটিং ধস। শুধু ধস বললে ভুল হবে, মনে হচ্ছিলো চোখের পলকে ধ্বংসস্তূপ নেমে এলো ইংলিশ শিবির। লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালের জাদুকরী তোপে বালুর বাঁধের মতো এভাবেই ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন আপ।

অর্থাৎ ৮ রানে তারা শেষ ৮টি উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসে। তাতে ১৬.৩ ওভারে ১২৭ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস। আর ইংল্যান্ডের নাটকীয় ব্যাটিং ধসে ৭৫ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত। পাশাপাশি ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

ইংল্যান্ডের হয়ে জ্যাসন রয় ৩২, জো রুট ৪২ ও ইয়ান মরগান ৪০ রান করেন। বাকিদের রানের সংখ্যাটা ঠিক টেলিফোন নম্বরের মতো ০, ০, ৬, ২, ০, ০, ০, ০।

বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২০২ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে স্বাগতিকরা। ভারতের প্রথম স্পিনার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ উইকেট নেওয়া চাহালের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৬ ওভার ৩ বলে ১২৭ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড।

বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই স্যাম বিলিংসকে হারায় ইংল্যান্ড। চাহালের আঘাত সামলে দলকে দ্রুত এগিয়ে নেন রয় (২৩ বলে ৩২)। তার বিদায়ের পর ইংল্যান্ডকে ২ উইকেটে ১১৯ রানের দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করান রুট (৪২) ও মর্গ্যান (২১ বলে ৪০)।

অতিথিরা যখন রানের গতি আরেকটু বাড়ানোর চেষ্টা করছিল তখনই আঘাত হানেন চাহাল। ২৬ বছর বয়সী লেগ স্পিনার পরপর দুই বলে ফিরিয়ে দেন মর্গ্যান ও রুটকে। এর আর দাঁড়াতেই পারেননি কেউ। শেষ সাত ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কে যেতে পারেননি।

মারকুটে জশ বাটলারকে শূন্য রানে ফেরান জাসপ্রিত বুমরাহ। নিজের পরের ওভারে ইংল্যান্ডের সব আশা শেষ করে দেন চাহাল। এই লেগ স্পিনারের বলে বিভ্রান্ত হয়ে ফিরেন বেন স্টোকস, মইন আলি ও ক্রিস জর্ডান। লিয়াম প্লানকেট ও টাইমাল মিলসকে বিদায় করে বাকিটুকু শেষ করেন বুমরাহ।

২৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার চাহাল। শ্রীলঙ্কার অজন্তা মেন্ডিসের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই সংস্করণে ছয় উইকেট পেলেন তিনি। ১৪ রানে ৩ উইকেট নেন পেসার বুমরাহ।

এর আগে শুরুতেই রান আউট হয়ে ফিরেন কোহলি। বেশিক্ষণ টিকেননি অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লোকেশ রাহুলও। পাল্টা আক্রমণে দ্রুত রান সংগ্রহ করেন ২০১০ সালের পর প্রথম অর্ধশতক পাওয়া রায়না। রাহুলের সঙ্গে ৬১ ও ধোনির সঙ্গে ৫৫ রানের দুটি দারুণ জুটি উপহার দেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ৪৫ বলে ৬৩ রান করা রায়নার ঝড়ো ইনিংসটি গড়া ৫টি ছক্কা ও দুটি চারে।

অবশেষে টি-টোয়েন্টি অর্ধশতক পেলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ধোনি। পঞ্চাশ ছুঁতে এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি ৪২ ম্যাচ লেগেছিল আয়ারল্যান্ডের গ্যারি উইলসনের। ৭৬তম ম্যাচে অর্ধশতক পেলেন ধোনি (৫৬)। তার ৩৬ বলের ইনিংসটি গড়া ৫টি চার ও দুটি ছক্কায়।

ধোনির সঙ্গে ৫৭ রানের জুটি গড়ে ফিরেন যুবরাজ (২৭)। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ১০ বলের টর্নেডো ইনিংসটি গড়া ১টি চার ও ৩টি ছক্কায়। ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হওয়া রিশাব পান্ত অপরাজিত থাকেন ৬ রানে।

স্বাগতিক ব্যাটসম্যানের ঝড়ে সবচেয়ে অংশটা যায় ক্রিস জর্ডানের ওপর দিয়ে। আগের ম্যাচে ২২ রানে ৩ উইকেট নেওয়া এই পেসার এবার ৫৬ রানে নেন ধোনির উইকেট। লেগ স্পিনার আদিল রশিদ ২ ওভারে ২৩ ও পেসার লিয়াম প্লানকেট ২ ওভারে ২২ রান দেন।

২০১২ সালে দুবাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ৭৪ রানে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ৮২ রানের রেকর্ডটি তাদের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

২০১১ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আরেক ধস দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। ওই দিন ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। নাগপুরে আগে ব্যাট করে ৩৯.২ ওভার শেষে ১ উইকেটে ভারতের সংগ্রহ ২৬৭ রান। এরপর ২৯ রান তুলতেই সাজঘরে শেষ ৯ ব্যাটসম্যান।

২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে বিনে উইকেটে ৫ রান তোলার পর ইংল্যান্ড অল আউট হয়েছিল ৮১ রানে। অর্থাৎ ৭৬ রানে পড়েছিল ১০ উইকেট। ২০০১ সালে একই মাঠে বিনা উইকেটে ১০১ রান তোলার পর ১৮৯ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ২০২/৬ (কোহলি ২, রাহুল ২২, রায়না ৬৩, ধোনি ৫৬, যুবরাজ ২৭, পান্ত ৬*, পান্ডিয়া ১১; মিলস ১/৩২, জর্ডান ১/৫৬, প্লানকেট ১/২২, স্টোকস ১/৩২, মইন ০/৩০, রশিদ ০/২৩)

ইংল্যান্ড: ১৬.৩ ওভারে ১২৭ (রয় ৩২, বিলিংস ০, রুট ৪২, মর্গ্যান ৪০, বাটলার ০, স্টোকস ৬, মইন ২, প্লানকেট ০, জর্ডান ০, রশিদ ০*, মিলস ০; নেহরা ০/২৪, চাহাল ৬/২৫, বুমরাহ ৩/১৪, মিশ্র ১/২৩, পান্ডিয়া ০/১৭, রায়না ০/২২)

ফল: ভারত ৭৫ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: যুজবেন্দ্র চাহাল (ভারত)
ম্যান অব দ্য সিরিজ: যুজবেন্দ্র চাহাল (ভারত)
সিরিজ: ভারত ২-১ ব্যবধানে জয়ী