Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা বাপের হোটেলে খেয়ে পড়াশোনা করেনি’

পিপলস ভয়েস ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ছেলে-মেয়েদের কষ্টের কথাগুলো সংসদে তুলে ধরলেন। তিনি বলেছেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করেছে। তারা বাপের হোটেলে খেয়ে পড়াশোনা করেনি, তাদের কষ্ট করে পড়াশোনা করতে হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় সংসদ নেতা এ কথাগুলো বলেন। বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদের চাকরির বয়স বাড়ানো প্রসঙ্গে উত্থাপিত কথার জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা নিয়েছে, বিদেশে পড়েছে। তারা চাকরি করেছে অথবা ছাত্র লোন নিয়ে পড়াশোনা করেছে। একটা ডিগ্রি নিয়ে চাকরি করেছে, লোন শোধ করেছে আবার পড়েছে। তারপর তারা কাজ করেছে। আমার এতো পয়সা ছিল না যে আমার বাবার কিছু বন্ধু-বান্ধব ছিল তারা সহযোগিতা করেছেন, আমার কিছু বন্ধু-বান্ধব সহযোগিতা করেছিলেন বলেই পড়াতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশে যখন পড়েছে, তারা পার্ট টাইম কাজ করেছে এবং এখনো করছে। আমার মেয়ের করতে হয়নি, কারণ মেয়ের পড়াশোনার মধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে। তারপরেও সে চাকরি করেছে। সবাই নিজেরা খেটে খেয়েছে। রেহানার ছেলে মেয়েও তাই। কাজেই তাদের সঙ্গে তুলনা করি না। আমাদের ছেলে মেয়ে ২১ বছর বয়সেই চাকরি নিয়েছে।’

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘৩৫ বছরে যদি তারা পিএসসি পরীক্ষা দেয়, ট্রেনিং নিয়ে চাকরিতে ঢুকতে ঢুকতে ৩৮ বছর হবে। যদি কেউ ৩৮ বছর চাকরিতে ঢুকে, তার সাথে সাথে যদি ২২-২৩ বছরে ওই একই চাকরিতে ঢুকে, তাহলে কত বছর পার্থক্যে চাকরিতে ঢুকবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা অবসরে যাচ্ছেন তাদের কেউ ২৪ বছরেই চাকরিতে ঢুকেছেন। আমরা চাকরিতে বয়স বৃদ্ধি করেছি। আমরা ৫৭ থেকে ৫৯ করেছি। ৩৮ বছরে যে ঢুকবে সে ২২-২৩ বছর চাকরি করতে পারবে। সে পূর্ণ পেনশন পাবে না। আর মানুষের সৃজনশীলতা ২৪-২৫ বছর বয়সে বেশি থাকে। আর ২১ বছরে মানুষ পূর্ণতা পায়। কাজেই যারা ৩৮ বছরে চাকরি ঢুকবে তাদের সেই সময়টা কোথায় যাবে। মূল্যবান সময়টা কি করবে? ৮ বছর চলে যাবে, বৃদ্ধ বলব না। তারা কি কাজ করবে। এরপর তারা চাকরিতে বয়স বাড়ানোর কথা বলবে, বয়স বাড়ালেতো নতুন চাকরি কেউ পাবে না। কেউ অবসরে যাবে না, পদ সৃষ্টি হবে না। শুধু দাবি তুললেই হয় না।