Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

এ পাশবিকতার শেষ কোথায়?

পিপলস ভয়েস:
আবারো চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটলো। এবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্বর্ণলতা যাত্রীবাহী বাসে শাহিনুর আক্তার তানিয়া (২৪) নামে এক নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা তাকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গজারিয়া জামতলী নামক স্থানে।

কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপা হত্যার ২০ মাসের মাথায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আবার একই ধরনের পৈশাচিক ঘটনা ঘটলো। চলন্ত বাসে ধর্ষণ এক কঠিন ও কুৎসিত বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে আমাদের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনোভাবেই তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। রাস্তায় যানবাহন যে নারীদের জন্য চরম অনিরাপদ, এ কথাই যেন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এসব ঘটনা।

হঠাৎ করে বাসে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে নারী লাঞ্ছনা-ধর্ষণের ঘটনা। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে কলেজ ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপা চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে যায়। এর আগে ধামরাই, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সাভার ও ময়মনসিংহে বাসে, মাইক্রোবাসে পোশাক শ্রমিক ধর্ষণের ঘটনা জানা গেছে গণমাধ্যম মারফত।

এ ধরনের ঘটনা আমাদের সামাজিক সুস্থতা এবং নারীর নিরাপত্তা দুটোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। সাধারণত শ্রমিক, দরিদ্র ও দুর্বল ঘরের মেয়েরাই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে মামলা চালানোর মতো অর্থ ও সময় তাদের পরিবার দিতে পারে না। সামাজিকভাবেও তাদের অবস্থান শক্তিশালী নয়। বিপরীত দিকে অর্থবিত্ত বা সামাজিকভাবে প্রভাবশালীরা বা তাদের মদদপুষ্টরাই ধর্ষণের মতো অপরাধ করে।

ফলে এসব ক্ষেত্রে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে, মামলা নিলেও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে টালবাহানা করে, অপরাধীদের বাঁচিয়ে প্রতিবেদন দেয় কিংবা অপরাধী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের দেখতে পায় না। এরকম অভিযোগ অজস্র। তানিয়া হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় বাসটির চালক নুরুজ্জামান ও হেলপার লালন মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এই জঘন্য অপরাধ যে মাত্রায় বেড়েছে, লাগাম টেনে না ধরা গেলে তা সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নেবে। গণপরিবহনে মেয়েদের চলাচল নিরাপদ করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ধর্ষণ প্রতিরোধে অপরাধীর যথার্থ শাস্তি নিশ্চিত করা, দুর্বল ভিকটিমদের পক্ষে রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে। অপরাধ তদন্তে ও অপরাধীদের বিচারাধীন করায় পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে এগিয়ে আসতে হবে ব্যক্তি-সংগঠনকে। আমরা দেখতে চাই, রুপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মতো তানিয়া ধর্ষণ ঘটনার দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি হবে এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে।