Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কলকাতায় রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন

পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৯ মে) ২৫শে বৈশাখ, অর্থাৎ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী। কবিগুরুর জন্মদিন উপলক্ষে গোটা ভারতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কবির জন্মোৎসব পালিত হলো তাঁর জন্মস্থান উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। রীতি অনুযায়ী এদিন স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টায় প্রভাতি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হয়। উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র ভারতীর ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক সহ হাজারো রবীন্দ্র প্রেমীরা।

এ উপলক্ষে রবীন্দ্র ভারতীর ভায়েস চ্যান্সেলর সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘কবিগুরুর জন্মদিন উপলক্ষে চিরাচরিত রীতি মেনে প্রথমে কবিগুরুর জন্ম কক্ষে পুস্পার্ঘ নিবেদন করে তার পর তাঁর প্রয়াণ কক্ষে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমারা দিনের শুরু করি।’

এছাড়া এই বছর রবীন্দ্র ভারতী মিউজিয়ামে নতুনভাবে একটি গ্যালারির উদ্বোধন করা হয়েছে। যেটিকে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। এই গ্যালারিতে ৭২টি ছবি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে এবং তা প্রদর্শিত হচ্ছে। এই ছবিগুলোর মধ্যে ১৯টি ছবি ইতিমধ্যেই গ্যালারিতে ছিল বাকি ৫৩টি ছবি এমন যা মানুষ আগে দেখেননি। গ্যালারিতে কবিগুরুর আঁকা একটি ছবি রয়েছে। যেটি ‘ম্যাকবেথ’ নাটকের ৩ জন ডাইনি বা থ্রি হুইচেস এর অনুকরণে আঁকা।

কবিগুরুর ছবিটির নাম দিয়েছিলেন ‘তিন ডাকিনী’। এছাড়া রয়েছে শুভ ঠাকুর, অসিত হালদার, রামকিংকর বেজ এবং ঠাকুর পরিবার ও ঠাকুর পরিবারের ঘনিষ্ঠদের আঁকা ছবি যেগুলো সাধারণ মানুষ দেখতে পেতেন না সেগুলোকে আজ সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবছরের মতো প্রভাতি অনুষ্ঠান সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে থেকে শুরু হয়েছিল। যা বেলা দেড়টা পর্যন্ত চলেছে। বিরতির পর বিকেল চারটে থেকে চারুকলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা গান, নাচ, আবৃত্তির অনুষ্ঠান চলছে।

গত বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে এসেছিলেন শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করতে, পাশাপাশি জোড়াসাঁকোতেও এসেছিলেন তিনি। বাংলাদেশ ভবনের মতো জোড়াসাঁকোতেও মিউজিয়ামের উৎসাহ প্রকাশ করেছিলেন, সেটা কতদূর?

উত্তরে সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী বলেন, ‘যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনা জোড়াসাঁকোতে আসেন, তখন তিনি এই বিষয় নিয়ে উৎসাহ দেখিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিভাগের বেশ কিছু আধিকারিক গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এসেছেন। তারা তাদের মতো করে কিছু জিনিস দেখে গেছেন, আলাপ আলোচনা করে গেছেন। আশা করছি আমারা কিছুদিনের মধ্যতেই যেখানে রবীন্দ্রনাথের জন্ম এবং প্রয়াণ সেই জোড়াসাঁকোতে বাংলাদেশ গ্যালারির সূচনা করতে পারব।’

বাঙালরি কাছে রবীন্দ্রনাথ কতটা প্রাসঙ্গিক? উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাঙালির কাছে তো বটেই ভারতীয়দের কাছেও এবং গোটা বিশ্বের কাছে রবীন্দ্রনাথ যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি। আমারা অনেক বেশি রবীন্দ্রনাথের গানের সঙ্গে পরিচিত। কারণ অনেক প্রথিতযশা রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ভারত এবং বাংলাদেশে এই গান গেয়েছেন। কিন্তু আমারা যদি রবীন্দ্রনাথের কবিতা, ছোট গল্প, প্রবন্ধ এবং উপন্যাস ফিরে দেখি তাহলে বুঝতে পারবো। তার মধ্যে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা আজকের পৃথিবীতে, যে পণ্যায়ন, যে বিশ্বায়ন, যে সংকীর্ণতা চলছে সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা আরও নতুন করে পড়া দরকার এবং আমি বিশেষ ভাবে প্রাসঙ্গিক মনে করি।’

প্রাসঙ্গিকতার বিষয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার, সাংবাদিক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘উগ্র জাতীয়তাবাদ, খণ্ড জাতীয়তাবাদ, কট্টরতা, অসহিষ্ণুতা শব্দগুলো গত কয়েক বছর ধরে ভীষণ ভাবে চর্চিত ভারতে। স্বাধীন ভারতে এর আগে কখনও জাতীয়তাবাদ এত উগ্র চেহারা নেয়নি। এই উগ্রতাকে প্ররোচিত করছে জাতীয়তাবাদের ঠিক বিপরীতে থাকা যে সব তত্ত্ব, সে সবও আগে কখনও এত হানিকারক চেহারা নেয়নি। এই সব কিছু নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখে গিয়েছেন আজ থেকে কমবেশি ১০০ বছর আগে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক রবি ঠাকুরের সে সব রচনা। সময় এসেছে সকলের আবার একবার পড়ে দেখার।’