Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

২৫ দিনে এভারেস্টে মিলল ৩ হাজার কেজি আবর্জনা

পৃথিবীর সর্ব্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টকে আবর্জনামুক্ত করতে গত ১৪ এপ্রিল থেকে অভিযান শুরু করেছে নেপাল সরকার। টানা ৪৫ দিন ধরে চলবে এ অভিযান।

বুধবার (৮ এপ্রিল)পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার কেজি আবর্জনা সংগ্রহ করেছেন দেশটির জঞ্জাল পরিষ্কার করার শেরপা সদস্যরা। এবারের অভিযানে অন্তত দশ হাজার কেজি আবর্জনা এভারেস্ট থেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন তারা। নেপালের সোলুকুম্বু জেলার কুম্বু পাসাঙ্গলহামু গ্রামীণ পুরসভা এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

একাধিক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাও তাদের সঙ্গে আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে হাত লাগিয়েছে। সংগৃহীত তিন হাজার কেজি আবর্জনার মধ্যে ২ হাজার কেজি আবর্জনা দেশটির কিরাট রাজ্যের ওখালদুঙ্গা জেলায় পাঠানো হয়েছে। বাকি ১ হাজার কেজি আবর্জনা নেপাল সেনার হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে আনা হয়। এই অভিযানে পর্বতারোহীর বেসক্যাম্প, সাউথ কোল রিজিয়ন এবং ক্যাম্প ২ ও ৩ থেকে সব মিলিয়ে যথাক্রমে ৫, ২ ও ৩ হাজার কেজি আবর্জনা নামিয়ে আনা হবে। সম্পূর্ণ পরিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নেপালি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ খরচ হবে।

উল্লেখ্য, এভারেস্টকে জঞ্জাল মুক্ত রাখতে ২০১৪ সালে আইন বানিয়েছিল নেপাল সরকার। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রত্যেক পর্বতারোহীকে নিচে নামার সময় আট কেজি আবর্জনা সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু সেই নিয়ম কেউই সেভাবে মানছেন না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন দেশটির পর্যটন দপ্তরের ডিজি ডান্ডু রাজ ঘিমিরে।

তাঁর কথায়, একজন পর্বতারোহী নিজে যতটা আবর্জনা তৈরি করছেন, সেটুকুও যদি তিনি সঙ্গে করে নিয়ে নিচে আসেন, তাহলেও পরিচ্ছন্নতার কাজ অনেকটাই এগোবে। আবর্জনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে খালি অক্সিজেন সিলিন্ডার, রান্নায় সামগ্রী, পানীয় ক্যান বোতল, খাদ্য টুকরোর ব্যাগসহ একাধিক সামগ্রী।

তবে আবর্জনামুক্ত করার সময় বেশ কিছু নিহত অভিযাত্রীদের দেহও মিলছে। তাপমাত্রা বাড়ায় বরফ গলতেই দেহগুলোর হদিস মিলছে। সেগুলোকেও নিচে নামিয়ে আনার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে চারটি দেহ বেসক্যাম্পে আনা হয়েছে। এরমধ্যে ২০১৪ সালের ২০মে পর্বতে হারিয়ে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের পর্বতারোহী কন্যা ছন্দা গাইনেরও দেহ আছে কিনা তাও শনাক্ত করা হচ্ছে। আগামী ২৯ মে এই অভিযান শেষ হতে চলেছে।

১৯৫৩ সালে ওই দিনেই এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া ছুঁয়েছিলেন। প্রতিবছরই এই দিনটি মহাসমারোহে পালন করে নেপাল। ওই দিনটিকে এই কর্মসূচির সমাপ্তির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিশ্ব পরিবেশ (৫ জুন) দিবসের দিন কাঠমাণ্ডুতে সংগৃহীত আবর্জনার একটি প্রদর্শনীও আয়োজন করতে চলেছে দেশটি।