Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

বিশ্বকাপ মঞ্চে সর্বোচ্চ ব্যাটিং অ্যাভারেজধারীরা

স্পোর্টস ডেস্ক:
দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দ্বাদশ আসর। হাতে বাকি আছে আর ১৪ দিন। এরপরই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের দশটি মাঠে প্রায় দেড়মাস ধরে চলবে ক্রিকেটের এ মহাযজ্ঞ। যেখানে বিশ্বের দশটি দেশ একে অপরের মুখোমুখি হবে। এরপর ১৪ জুলাই নির্দিষ্ট একটি দেশের হাতে সোনালী ট্রফি তুলে দিয়ে থামবে এ লড়াই।

গত এগারোটি আসরে অনেক ইতিহাস গড়েছে আবার ভেঙেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাস লেখার সেই পাতাগুলোও অপেক্ষা করছে নতুনদের ঠাঁই দেয়ার জন্য। কেউ এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করে, সর্বোচ্চ রান করে কিংবা সর্বোচ্চ ক্যাচ নিয়ে। এমন অনেক কিছুই দেখা যাবে আসছে আসরেও।

তার আগে আসুন জেনে নেই বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ ব্যাটিং অ্যাভারেজের তালিকায় এখন পর্যন্ত সেরা পাঁচে কারা আছেন।

ল্যান্স ক্লুজনার বোপোনা (দক্ষিণ আফ্রিকা)
ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে পাওয়ারফুল হার্ডহিটারদের একজন। লোয়ার অর্ডারে কার্যকরীয় ব্যাটিং আর বুদ্ধিদীপ্ত মিডিয়াম পেস বোলিং দিয়ে মুহূর্তেই ঘুরিয়ে দিতেন খেলার মোড়। আনঅর্থোডক্স টেকনিকের নিখুঁত পিঞ্চ হিটিং আর বেসবল স্টাইলের ‘হাই ব্যাকলিফট’ ব্যাটিংয়ে এনে দিয়েছিল ভিন্ন মাত্রা। ক্রিকেট বিশ্ব তাকে চেনে ল্যান্স ক্লুজনার হিসেবে আর সতীর্থদের কাছে তিনি ‘জুলু’ নামে পরিচিত।

বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে হতভাগ্য ক্রিকেটার তিনি। দীর্ঘ ৮ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে জিততে পারেননি কোনও বিশ্বকাপ। সবশেষ ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডোনাল্ড হাস্যকর রানআউট হলে হেড টু হেডে এগিয়ে থাকায় ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ধুলিষ্মাৎ হয়। নিজের দিনে ক্লুজনার ছিলেন সত্যিকারের ম্যাচ উইনার। ফিনিশার হিসেবে ছিলেন দুর্দান্ত। নিশ্চিত হারতে থাকা অনেক ম্যাচও জিতিয়েছেন একা হাতে। উইজডেনের ভাষায়, ‘ক্লুজনার ম্যাচটা শেষ করেই বের হতেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন!’

বিশ্বকাপের মঞ্চে ১২৪ অ্যাভারেজ নিয়ে সবার ওপরে ক্লুজনার। ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত বিশ্বকাপের দুইটি আসরে অংশ নিয়ে ১৪টি ম্যাচ খেলেছিলেন। ১২১.১৭ স্ট্রাইকরেটে ৮ ইনিংসে করেন ৩৭২ রান। তার সর্বোচ্চ ইনিংস ৫৭ রান। রয়েছে ৩টি হাফসেঞ্চুরি।

অ্যান্ড্রু সায়মন্ডস (অস্ট্রেলিয়া)
দুইবার বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম সদস্য তিনি। ডানহাতি মধ্যমসারির ব্যাটসম্যান এবং মিডিয়াম পেস ও অফ-স্পিনে দক্ষ ছিলেন। এছাড়াও তিনি ফিল্ডিংয়েও ছিলেন দুর্দান্ত। রয় নামেই তিনি সতীর্থদের কাছে পরিচিত।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ১০৩ অ্যাভারেজ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে সায়মন্ডস। ২০০৩ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত বিশ্বকাপের দুইটি আসরে অংশ নিয়ে ১৮টি ম্যাচ খেলেছিলেন। ৯৩.২৯ স্ট্রাইকরেটে ১৩ ইনিংসে করেন ৫১৫ রান। তার সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ১৪৩ রান। রয়েছে ১টি সেঞ্চুরি ও ৩টি হাফসেঞ্চুরি। ২০০৩ ও ২০০৭ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার দলের অন্যতম একজন সদস্য ছিলেন।

আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডিভিলিয়ার্স (দক্ষিণ আফ্রিকা)
বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে হতভাগা ক্রিকেটার হলেন তিনি। যাকে বিশ্বমঞ্চ এবি ডি ভিলিয়ার্স নামেই চিনে। দীর্ঘ ১৪ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে জিততে পারেননি কোনও বিশ্বকাপ। সবশেষ ২০১৫ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে ছিটকে যেতে হয় বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছ থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট নয় শুধু, তার নান্দনিক ব্যাটিং জয় করেছে গোটা বিশ্বজুড়ে কোটি ক্রিকেট ভক্তের মন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ৬৩.৫২ গড় নিয়ে তৃতীয় স্থানে ভিলিয়ার্স। ২০০৭ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বিশ্বকাপের তিনটি আসরে অংশ নিয়ে ২৩টি ম্যাচ খেলেছিলেন। ১১৭.২৯ স্ট্রাইরেট ২২ ইনিংসে করেন ১ হাজার ২০৭ রান। তার সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ১৬২ রান। রয়েছে ৪টি সেঞ্চুরি ও ৬টি হাফসেঞ্চুরি।

মাইকেল জন ক্লার্ক (অস্ট্রেলিয়া)
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কদের একজন। ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি বেশ সুনাম অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি উচ্চমানের স্লিপ ফিল্ডার ও দলের প্রয়োজনে বামহাতি অর্থোডক্স স্পিন বোলিং করতেন। ক্রিকেট বিশ্ব তাকে মাইকেল ক্লার্ক হিসেবেই চিনে। তবে সতীর্থদের কাছে তার পরিচয় পাপ, ক্লেরকি, টপ ডগ, নেমো ও এমিনেম নামে।

১০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তিনি দুইটি বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছিলেন। একটিতে দলের সদস্য হিসেবে আরেকটিতে অধিনায়ক হিসেবে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ৬৩.৪২ গড় নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান ক্লার্কের। ২০০৭ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বিশ্বকাপের তিনটি আসরে অংশ নিয়ে ২৫টি ম্যাচ খেলেছিলেন। ৯৪.১৬ স্ট্রাইরেট ২১ ইনিংসে করেন ৮৮৮ রান। তার সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ৯৩ রান। রয়েছে ৮টি হাফসেঞ্চুরি। ২০১৫ সালে তার অধিনায়কত্বেই শিরোপা ঘরে তোলে অস্ট্রেলিয়া।

স্যার ইসাক ভিভিয়ান আলেক্সান্ডার রিচার্ডস (উইন্ডিজ)
ক্যারিবীয় কিংবদন্তী। যিনি ক্রিকেটে মহলে ভিভ রিচার্ডস নামে পরিচিত। তারা ডাকনাম মাস্টার ব্লাস্টার, স্মোকি, স্মোকিন জয়, কিং ভিভ। ক্রিকেটের ইতিহাসে অসামান্য অবদান রাখায় ১৯৯৯ সালে ক্রিকেটের সম্মান সূচক নাইট উপাধিতে ভূষিত হন তিনি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ৬৩.৩১ গড় নিয়ে পঞ্চম স্থানে অবস্থান ভিভের। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত বিশ্বকাপের চারটি আসরে অংশ নিয়ে ২৩টি ম্যাচ খেলেছিলেন। ৮৫.০৫ স্ট্রাইরেট ২১ ইনিংসে করেন ১ হাজার ১৭ রান। তার সর্বোচ্চ ইনিংস ১৮১ রান। রয়েছে তটি সেঞ্চুরি ও ৫টি হাফসেঞ্চুরি। ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্য ছিলেন তিনি।