Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

শিক্ষার্থীদের ‘জানোয়ার’ বলে লাথি মারতে চাইলেন উপাচার্য

শিক্ষাসাগর ডেস্ক:
এবার শিক্ষার্থীদের ‘জানোয়ার’ বলে শাসালেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন। আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে এভাবে শাসালেন বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের শাসানোর এমন একটি অডিও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ওই অডিও সূত্রে জানা যায়, কোনো এক শিক্ষার্থীর উদ্দেশে উপাচার্য বলছেন, ‘এই জানোয়ার, তোর বাপ বিশ্ববিদ্যালয় চালায়? জানোয়ারের দল। লাথি দিয়া বের করে দিতে ইচ্ছে করে। তোর বাপেরে চালাইতে ক। দেখি কী চালায় তোর আব্বা। তোরা জানোয়ারের দল। কোনডারে ছাড়ব? একটার চেয়ে আরেকটা বেশি। তোরা চালা তাইলে বিশ্ববিদ্যালয়।’

এ দিকে শিক্ষার্থীদের জানোয়ার বলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, ‘এসব সরকার বিরোধীদের ষড়যন্ত্র, যা অভিযোগ উঠেছে, তার ভিত্তি নাই।’

এর আগে রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে আগামী ৩ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার পরও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন করে শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তৃতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

এ দিকে ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গোবরা এলাকায় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে বহিরাগতরা। এ ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ড. খন্দকার নাসির উদ্দিনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে বহিরাগত সন্ত্রসীরা এ হামলা চালিয়েছে।

এ ব্যাপারে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকে বলেন, সকালে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশগ্রহণের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ৪০-৫০ জনের একটি দল তাদের ওপর রামদা, হকিস্টিক এবং লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফিশারিজ দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর মাথা ইট দিয়ে ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত শিক্ষার্থীদের গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।